বিশ্বব্যাপী ধাতবপণ্য ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রধান আমদানিকারক দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন। দেশটিতে বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি। ফলে ২০২৪ সালে নিম্নমুখী ছিল জ্বালানি তেল ও আকরিক লোহার বাজার। প্রবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কায় আগামী বছরও পণ্যগুলোর দাম নিম্নমুখী থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বিশ্লেষকদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ও মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম টানা তৃতীয় বছরের মতো নিম্নমুখী থাকতে পারে। এর পেছনে সরবরাহ বৃদ্ধিও একটি উল্লেখযোগ্য কারণ।
আকরিক লোহার দাম গত বছর কমেছে ১৫ শতাংশ। বিশ্লেষকদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, সরকারি প্রণোদনা সত্ত্বেও চীনে ইস্পাতের কম চাহিদা ও আকরিক লোহার সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে ২০২৫ সালে নিম্নমুখী থাকতে পারে পণ্যটির বাজারদর।
ফ্রেইট ইনভেস্টর সার্ভিসেসের সিনিয়র বিশ্লেষক পেই হাও বলেন, ‘২০২৫ সালে আকরিক লোহার গড় মূল্য টনপ্রতি ১০০ ডলার হতে পারে, ২০২৪ সালে যা ছিল ১১০ ডলার।
এদিকে বিশ্বব্যাপী কোকো ও কফির বাজার ২০২৪ সালের শেষ দিকে দ্বিতীয় বছরের মতো সবচেয়ে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতি। ২০২৪ সালে কোকোর দাম প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ডিসেম্বরে নিউইয়র্কে পণ্যটির দাম টনপ্রতি ১২ হাজার ৯৩১ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া পশ্চিম আফ্রিকায় শুষ্ক আবহাওয়ায় ২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরেও সরবরাহ কমার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
ডেনমার্কভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান স্যাকসো ব্যাংকের কোপেনহেগেনের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজির প্রধান অলে হ্যানসেন বলেন, ‘প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় প্রতিকূল আবহাওয়ায় কোকো ও কফির মতো পণ্য ২০২৪ সালে ছিল সবচেয়ে ঊর্ধ্বমুখী। তুলনামূলক ছোট ভৌগোলিক এলাকায় উৎপাদিত পণ্যের দাম কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এটি তার প্রমাণ।’
উল্লেখ্য, শীর্ষ কোকো উৎপাদনকারী দেশ আইভরি কোস্ট ও ঘানায় প্রতিকূল আবহাওয়া, কোকো বিনে রোগ, চোরাচালান এবং অবৈধভাবে খনি থেকে স্বর্ণ উত্তোলনের কারণে সরবরাহ ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছিল।
শুষ্ক আবহাওয়া কফির সরবরাহেও চাপ তৈরি করেছে। ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে অ্যারাবিকা কফির দাম ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এছাড়া আগামী বছরও প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চল ব্রাজিলে গত বছরের শুষ্ক আবহাওয়া আগামী মৌসুমের ফসলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
২০২৪ সালে স্বর্ণ ও রুপার দাম ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলারের বিনিময় হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়া এবং নিরাপদ বিনিয়োগের আশ্রয় খাত হিসেবে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের চাহিদা ২০২৫ সালেও ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।
বহুজাতিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান আইএনজির কমোডিটি রিসার্চ প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন বলেন, ‘২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হবে।’
কৃষিপণ্যগুলোর মধ্যে ২০২৪ সালে ফিউচার মার্কেটে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এ সময় প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে পণ্যটির দাম। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফিউচার মার্কেটে জাপানি রাবারের দাম বেড়েছে ৪২ শতাংশ।
অন্যদিকে পর্যপ্ত সরবরাহের কারণে ২০২৪ সালে ক্ষতির মুখে ছিল সয়াবিন, ভুট্টা ও গমের বাজার। যদিও ২০২৫ সালে গমের দাম কিছুটা বাড়তে পারে।